Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / আলোচনার মধ্যেই নতুন হামলার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়েছে ইরান

আলোচনার মধ্যেই নতুন হামলার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারিয়েছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইরানের ওপর নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর তেহরানের আস্থা ‘পুরোপুরি নষ্ট’ হয়ে গেছে।

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো-এর সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, আলোচনা চলাকালেই অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। ফলে চলমান সংলাপের মাঝেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, সংলাপ ও কূটনীতি সব সময়ই তেহরানের অগ্রাধিকার। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, “বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।”

২০২৫ সালের জুনে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই প্রথম দফা হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয়বার একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেননি। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন স্বীকার করেছে, ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন কংগ্রেসের শুনানিতে জানান, হরমুজ প্রণালিতে এখনো ইরানের কিছু দ্রুতগতির যুদ্ধনৌকা সক্রিয় রয়েছে।

এ তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের ১৫৯টি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের নৌক্ষমতা কার্যত শেষ। নতুন তথ্য সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে সক্রিয় হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় ইরান দ্রুত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যৎ যেকোনো সংঘাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

বৈঠকে সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার ও জয়েন্ট চিফসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সম্ভাব্য কৌশলগত বিকল্পগুলো তুলে ধরেন।

এদিকে মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে হামলার বিষয়টি বর্তমানে প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে এবং এটি “যেকোনো সময়” ঘটতে পারে। তিনি এমন পদক্ষেপকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে দক্ষিণ লেবানন-এর নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘সাদা ফসফরাস’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই রাসায়নিকের ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী এবং বেসামরিক মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

x

Check Also

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি: জ্বালানি তেল নিয়ে চাপে সরকার, বাড়ছে ভর্তুকির বোঝা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ...