মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ) : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে আগামী ৯ মার্চ মোবাইল ফোনে শেয়ার লেনদেন চালু হচ্ছে।
আগামী ৯ মার্চ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সেবাটি চালু হলে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে নিজেই শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন। এছাড়া নিজের পোর্টফোলিওর অবস্থা এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার দর পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। এর আগে লেনদেন চালুর বিষয়টি কয়েক দফা পেছানো হয়েছিল।

সূত্র জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য বিনিয়োগকারীকে নিজ নিজ ব্রোকারেজ হাউস থেকে ইউজার আইডি (ব্যবহারকারীর পরিচয়) এবং পাসওয়ার্ড (গোপন নম্বর) নিতে হবে। এরপর লেনদেন চলাকালীন স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েব সাইটে ঢুকে এমএ প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে শেয়ার বেচাকেনার অর্ডার দেয়া যাবে। এ অর্ডার কার্যকর হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মোবাইলে একটি বার্তা আসবে। তবে এছাড়া যারা একাধিক বিও হিসাব পরিচালনা করেন, তাদের প্রতিটি বিও একাউন্টের জন্য পৃথক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিতে হবে। তবে এ জন্য মাসিক ফি দিতে হবে।
আর লেনদেন চালু হলে পছন্দের শেয়ারটি যে দরে কিনতে আগ্রহী তা নির্ধারণ করে দিলে নির্দিষ্ট ওই দরে উঠলেই স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট বার্তাও পাওয়া যাবে। একইভাবে বিক্রির সময় দর নির্ধারণ করে দিলে শেয়ারটির মূল্য ওই দরে পৌঁছাতেই বিনিয়োগকারী বার্তা পেয়ে যাবেন। তবে ডিএসইর কর্মকর্তারা বলছেন, তারা একটি সফটওয়্যার চালু করবে। অর্থাৎ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা লেনদেনের সুযোগ পাবে। কিন্তু সরাসরি লেনদেনের বিষয়টি ব্রোকারেজ হাউস ও বিনিয়োগকারীদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে হবে। তারা বলেন, লেনদেনে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। আর এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা এগোচ্ছেন। ইতিমধ্যে মোবাইল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মোবাইলে শেয়ার কেনাবেচার জন্য গত বছর নতুন মোবাইল অ্যাপস চালু করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আর ডিএসইর কয়েকটি শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপসের মাধ্যমে লেনদেন চলছে। এ লক্ষ্যে ডিএসইর সার্ভারে কারিগরি উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে।
ডিএসই জানায়, বাংলাদেশে অ্যন্ড্রোয়েট ফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুসারে দেশে ইন্টানেট গ্রাহক ৪ কোটিতে পৌঁছেছে। এর বড় অংশই মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফলে মোবাইলে শেয়ারবাজারের তথ্য দ্রুত জানাতে এ উদ্যোগ নেয়া হল। আর মোবাইলে শেয়ার লেনদেন চালু হলে একদিকে বাজারে বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। অপরদিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে স্বচ্ছতাও বাড়বে। ফলে তারল্য সংকট কেটে যাবে বলে মনে করছে ডিএসইর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

