Don't Miss
Home / জাতীয় / সংসদ নির্বাচনে ঢাকায় ভোটের হার সর্বনিম্ন ৩৭.৪২%, সর্বোচ্চ ৪৮.৭৫%
Untitled design - 1

সংসদ নির্বাচনে ঢাকায় ভোটের হার সর্বনিম্ন ৩৭.৪২%, সর্বোচ্চ ৪৮.৭৫%

এমএনএ প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর সংসদীয় আসনগুলোর ভোটের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় কম। রাজধানীর ১৫টি আসনের (ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮) কোনো আসনেই ভোটের হার ৫০ শতাংশ অতিক্রম করেনি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৯৭টির আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। জাতীয়ভাবে ভোটের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সে হিসাবে রাজধানীর আসনগুলোতে ভোটের হার জাতীয় গড়ের নিচে অবস্থান করেছে।

ভোটের হারে এগিয়ে ও পিছিয়ে

রাজধানীতে সর্বোচ্চ ভোটের হার ছিল ঢাকা–৫ আসনে—৪৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, ডেমরা ও দনিয়া এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৪ হাজার ৭৫০ জন।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. নবী উল্লা পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা) পেয়েছেন ১৪ হাজার ২০৬ ভোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর আবদুস সবুর পেয়েছেন ১ হাজার ৩৪৬ ভোট। বাকি প্রার্থীরা এক হাজারের কম ভোট পেয়েছেন।

অন্যদিকে, সর্বনিম্ন ভোটের হার ছিল ঢাকা–১২ আসনে—৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শেরেবাংলা নগরের একাংশ এবং রমনা থানার মধুবাগ ও মগবাজার ওয়ারলেস এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩১৮ জন। ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১২ জন।

এ আসনে ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলম (মিলন) ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-সমর্থিত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী সাইফুল হক (কোদাল) পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম (নীরব) পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।

ভোটের হারে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা–৭ (৪৮ দশমিক ১৬ শতাংশ) এবং ঢাকা–৬ (৪৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ) আসন।

সর্বাধিক ও সর্বনিম্ন প্রাপ্ত ভোট

রাজধানীর আসনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা–১৮ (উত্তরা) আসনের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৯ জন এবং ভোটের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, ৬০ হাজারের কম ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন প্রার্থী। তাঁদের একজন ঢাকা–১২ আসনের সাইফুল আলম (৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট) এবং অন্যজন ঢাকা–৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাস (৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট)।

ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয়

ভোটের ব্যবধানে রাজধানীর সবচেয়ে বড় জয় এসেছে ঢাকা–৯ আসনে। খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৫৭ হাজার ৭৫২ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। এ আসনে ভোটের হার ছিল ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ; মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬ জন।

সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয়েছে ঢাকা–১১ আসনে। এখানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান ছিল ২ হাজার ৩৯ ভোট।

ঢাকা–১১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন এবং ভোটের হার ছিল ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ।

x

Check Also

দেশের ৭ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু, আহত বেশ কয়েকজন

এমএনএ প্রতিবেদক দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর ...