এমএনএ প্রতিবেদক
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, যাচাই–বাছাই শেষে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মাসিক ২,৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ, মঙ্গলবার ঢাকার কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন আনুষ্ঠানিকভাবে করবেন বলেও জানান তিনি। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে প্রথম মাসের ভাতা পৌঁছে যাবে।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে নারী প্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সার্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারে মা বা জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে।
মন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতাভোগী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (PMT) স্কোরিং ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ০.৫০ একর বা তার কম জমি এবং পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এছাড়া বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি এবং সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
মন্ত্রী জানান, কর্মসূচিটির জন্য মার্চ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসে মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সমন্বয়হীনতা দূর করে একটি তথ্যভিত্তিক ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ অথবা অস্থায়ীভাবে ‘চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮’-এ যোগাযোগ করা যাবে। অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মামুন তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

