ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে পেঁয়াজের বাজারদর নিম্নমুখী হওয়ায় চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বর্তমানে এক মণ (৪২ কেজি) পেঁয়াজ বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে এক কেজি গরুর মাংস কেনা সম্ভব হলেও ইলিশ মাছ কেনা যাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে জানা গেছে, ‘পেঁয়াজের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত সালথা উপজেলার সদর বাজার, ঠেনঠেনিয়া, বালিয়া, মাঝারদিয়া, নকুলহাটি, ফুলবাড়িয়া ও সোনাপুরসহ বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি মণ ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কেজিপ্রতি প্রায় ১৭ থেকে ২৭ টাকা।
অন্যদিকে, বাজারে ছোট আকারের ইলিশ মাছ (প্রতি কেজিতে ২-৩টি) বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে। ফলে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেও একজন কৃষক এক কেজি ইলিশ কিনতে পারছেন না। তবে গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা হওয়ায় সেই অর্থে এক কেজি মাংস কেনা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৫০ হেক্টর, যা বেড়ে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ হেক্টরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ২০০ হেক্টর এবং বীজ উৎপাদন হচ্ছে ৫০ হেক্টরে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়েছে এবং অনেকেই আগাম উত্তোলন করছেন। ফলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বোয়ালমারীর কৃষক রেজাউল করিম জানান, তিনি এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে ইলিশ কিনতে গিয়ে দেখেন সেই টাকায় সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত তিনি গরুর মাংস কিনেছেন।
চাষিদের অভিযোগ, এ বছর পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে। পাশাপাশি সার, বীজ ও শ্রমিকের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে প্রতি মণে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা হয়েছে। কিন্তু বাজারদর কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তারা মৌসুমের শুরুতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখে ন্যূনতম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা মণ দর নির্ধারণের দাবি জানান।
আরেক কৃষক আকরাম মোল্লা বলেন, মৌসুমের শেষ দিকে পেঁয়াজ মজুতদারদের হাতে চলে যায়। তখন দাম বাড়লেও কৃষকরা তার সুফল পান না। সংরক্ষণাগারের অভাব, বীজের উচ্চমূল্য, পরিবহনজনিত ক্ষতি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য তাদের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক কৃষক পেঁয়াজ চাষ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
সালথা বাজারের ব্যবসায়ী এরশাদ মোল্যা জানান, ঈদকে সামনে রেখে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে। ঢাকার অনেক আড়ত বন্ধ থাকাও এর একটি কারণ। তবে কিছুদিন পর দাম বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুদর্শন সিকদার বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। দাম কম থাকায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণাগার স্থাপনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
