Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে বাম জোটকে হারিয়ে আবারও ক্ষমতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?

কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে বাম জোটকে হারিয়ে আবারও ক্ষমতায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ, কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে বাম জোট এলডিএফকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। ১৪০ আসনের বিধানসভায় জোটটি জয় পেয়েছে ১০২টি আসনে। এর মধ্যে কংগ্রেস একাই পেয়েছে রেকর্ড ৬৩টি আসন। অন্যদিকে, ২০২১ সালের নির্বাচনে ৯৯টি আসন পাওয়া এলডিএফ এবার নেমে এসেছে মাত্র ৩৫ আসনে।

এই জয়ের পর এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে—কেরালার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হচ্ছেন তা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে এগিয়ে আছেন কংগ্রেসের তিন জ্যেষ্ঠ নেতা: বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা ভি. ডি. সাতিসান, সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা রমেশ চেন্নিথালা এবং এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক ও আলাপুঝার সাংসদ কে. সি. ভেনুগোপাল।

দলীয় তৃণমূল পর্যায়ে ভি. ডি. সাতিসানকে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে তিরুবনন্তপুরম থেকে এরনাকুলাম জংশনে পৌঁছালে বিপুল সংখ্যক কর্মী তাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী সাতিসান’ স্লোগানে স্বাগত জানান।

২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনী পরাজয়ের পর কংগ্রেসকে ঘুরে দাঁড় করানোর কৃতিত্বও অনেকেই সাতিসানকে দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইউডিএফ ২০টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয় পেয়েছিল।

অন্যদিকে, কে. সি. ভেনুগোপালও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ৪০ জনের বেশি বিধায়কের সমর্থন তাকে বড় সুবিধা দিচ্ছে।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফ জানিয়েছেন, বিধায়কদের বড় অংশ ভেনুগোপালের পক্ষেই রয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে তাকে লোকসভার সদস্যপদ ছেড়ে দিয়ে বিধানসভায় নির্বাচিত হতে হবে।

দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন আসনে প্রার্থী বাছাই এবং অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ সামাল দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ভেনুগোপাল। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তিরুবনন্তপুরমসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেনুগোপালকে ‘বিজয়ের স্থপতি’ উল্লেখ করে পোস্টার লাগানো হয়েছে। তবে কোট্টায়ামে সেই পোস্টারে কালি লেপনের ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া কান্নুরের ইরিক্কুর এলাকায় কংগ্রেস বিধায়ক ম্যাথিউ কুঝালনাদানের বিরুদ্ধেও পোস্টার দেখা গেছে। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) ঐতিহ্যগতভাবে একে অপরের নেতৃত্ব নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে না। একই সঙ্গে তিনি আইইউএমএলকে ইউডিএফের “মেরুদণ্ড” বলেও উল্লেখ করেন।

ইউডিএফের অন্যতম প্রধান শরিক আইইউএমএল এবার ২২টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দলটি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এটি পুরোপুরি কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলটিই নেবে।

যদিও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বড় অংশ সাতিসানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবুও শেষ পর্যন্ত কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন—সেই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নেবে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

x

Check Also

নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ দৃঢ় অবস্থানে, মোমিনুলও সেঞ্চুরির পথে

খেলাধুলা প্রতিবেদক পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে দারুণ এক ইনিংস খেললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। চাপের ...