Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / চালের বাজার আবারও অস্থিতিশীল

চালের বাজার আবারও অস্থিতিশীল

এমএনএ ডেস্ক রিপোর্ট : ভারত রপ্তানি বন্ধ করবে- এমন খবরে দেশের চালের বাজার আবারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। গত দু’দিনেই পাইকারিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৫ টাকা দাম বেড়েছে। তবে ভারত আসলেই রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি-না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা দপ্তর এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারতের কোনো গণমাধ্যমেও এ সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়নি।

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের এক চিঠির বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে চাল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় আড়াই মাস ভারত থেকে চাল রপ্তানি করতে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ চিঠিটি সঠিক কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে এমন সন্দেহ পোষণ করেছেন কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই। ডেপুটি হাইকমিশনার এখন কক্সবাজারের উখিয়ায় আছেন। তিনি ঢাকায় ফেরার পর তার সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে চালের প্রচুর মজুদ আছে। কোনো সংকট নেই। বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করা হয়েছে। অনেক চাল আমদানি পর্যায়ে রয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত চাল পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নেই।

মন্ত্রী বলেন, চাল মজুদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে সরকারি অভিযান শুরু হয়েছে। যাদের গোডাউনে চালের অবৈধ মজুদের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে।

আমাদের পাবনা অফিস ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি জানান, উত্তরবঙ্গে মোটা চালের বৃহৎ আড়ত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগর মোকামে হঠাৎ করে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তবে দাম বাড়লেও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ মোকামে চালের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি (৮৪ কেজি) ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে চালের দাম বাড়ার কারণে ঈশ্বরদী মোকাম প্রায় ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে। এর আগের সপ্তাহের মঙ্গলবার যে চালের বস্তা ছিল ৩ হাজার ৮০০ টাকা, চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার তা বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। এ মোকামে চালের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঈশ্বরদীর বাইরের ব্যবসায়ীরা চাল কিনতে আসছেন না বলে মোকাম সূত্রে জানা গেছে।

ভারত থেকে চাল আমদানি করেন দিনাজপুরের ব্যবসায়ী ললিত কেশরা। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারতের ব্যবসায়ীরা চাল রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। এখন পর্যন্ত রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। তবে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে রপ্তানি বন্ধ হচ্ছে বলে গুঞ্জন চলছে। ললিত বলেন, রপ্তানি বন্ধ না হলেও আমদানির জন্য আগে খোলা ঋণপত্রের দর অনুযায়ী চাল পাওয়া যাচ্ছে না। রপ্তানিকারকরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতি টন মাঝারি মানের চাল ৫০০ ডলারের বেশি দামে এখন আনতে হবে।

ললিত কেশরা আরও বলেন, ঈদের পর থেকে পাইকারদের তিন থেকে চারগুণ চালের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। গতকাল আমদানি করা মোটা চাল তারা ৪২ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি করেছেন, দু’দিন আগেও যা ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা ছিল। এখন মাঝারি মানের চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম কমবেশি আগে থেকেই বাড়ছিল। আকস্মিক ভারত চাল রফতানি বন্ধ করবে- এমন খবরে মিলগেটে ও রাজধানীর পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজিতে গড়ে ৫ টাকা বেড়েছে। একই সংবাদে খুচরা পর্যায়েও বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত খুচরায় কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে।

রাজধানীর পাইকারি চালের আড়ত বাদামতলী ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট। এ দুই বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আমদানি করা মোটা চাল ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। এতে প্রতি কেজি মোটা চালের দাম পড়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, যা দু’দিন আগেও ছিল ৪৩ থেকে ৪৪ টাকা।

এ মাসের শুরুতে ছিল ৪১ থেকে ৪২ টাকা। এ বাজারে মাঝারি মানের আমদানি করা ও দেশি বিআর ২৮ চাল ৫৩ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হয়। ভালো মানের সব ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৫৯ থেকে ৬১ টাকা ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায় বিক্রি হয়। গত সোমবার মাঝারি মানের চাল পাইকারিতে ৪৭ থেকে ৫০ টাকা, সরু চাল ৫৫ থেকে ৬৪ টাকা ছিল।

বাদামতলী আড়তদার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারতের চাল রফতানি বন্ধের খবরে দেশে চালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার খোলাবাজারে চাল বিক্রি শুরু করলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

তিনি বলেন, মিলগুলো ধানের বাড়তি দামের কথা বলে চালের দাম বাড়াচ্ছে। দেশে আগে দেড় থেকে দুই হাজার মিল ছিল। এখন ৪০ থেকে ৫০টি বড় মিল পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেন, এবার মৌসুমে সিটি গ্রুপের নতুন চালের মিল, রশিদ, এরফান, সাগরসহ বড় মিলগুলো প্রতিযোগিতা করে অতিরিক্ত দামে ধান কিনে এখন বেশি দামে বিক্রি শুরু করেছে। তাছাড়া এবার বন্যায় উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদামতো ধান পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে এখন বাজারে প্রভাব পড়ছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের জাহান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মো. শাহ আলম স্বপন এ প্রতিবেদককে বলেন, আমদানি করা চালের দাম বেড়েছে। দেশি মিলগুলো দাম অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে প্রতি বস্তায় সর্বোচ্চ দাম পড়ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ দামে মিল থেকে চাল আনতে হলে কেজিতে আরও দাম বেড়ে যাবে।

খুচরা বাজারেও গত দু’দিনে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে বলে জানান মিরপুর ১ নম্বরের চাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রতি মুহূর্তে পাইকারি বাজারে চালের দাম পরিবর্তন হচ্ছে। আমদানি করা মোটা চাল ৫১ থেকে ৫২, বিআর ২৮ চাল ৫৫ থেকে ৫৭, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৪ ও নাজিরশাইল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা হয়েছে।

x

Check Also

মন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও অভ্যন্তরীণ চলাচলে নতুন প্রটোকল জারি

এমএনএ প্রতিবেদক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশ গমন, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ...