Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি: জ্বালানি তেল নিয়ে চাপে সরকার, বাড়ছে ভর্তুকির বোঝা

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি: জ্বালানি তেল নিয়ে চাপে সরকার, বাড়ছে ভর্তুকির বোঝা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ করেই দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে। ফলে তেল পাওয়া গেলেও উচ্চমূল্যের কারণে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ গুরুতর চাপের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন বাড়তে থাকা দামের প্রভাবে সরকারের ভর্তুকি ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মে মাসে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হবে। প্রতি মাসের ৩০ তারিখে নতুন মূল্য নির্ধারণের নিয়ম থাকলেও চলতি মাসে কোনো সমন্বয় করা হচ্ছে না।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সম্প্রতি ৩৩ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির জন্য প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার (প্রায় ৭৮৭ কোটি টাকা) পরিশোধ করেছে। এতে আমদানি শুল্ক ছাড়া প্রতি লিটার ডিজেলের ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০৭ টাকার বেশি। এর সঙ্গে ৩০ শতাংশের বেশি আমদানি শুল্ক যুক্ত হলে ব্যয় আরও বেড়ে যায়। অথচ দেশে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে সরকারকে। এপ্রিল মাসেই জ্বালানি তেল বিক্রিতে লোকসান হয়েছে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জুনের মধ্যে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এর আগে গত ১৯ এপ্রিল সরকার ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ায়। তখন ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা। এর প্রভাবে পরিবহন ভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দামেও প্রভাব পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ নেই। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা দাম আরও বাড়াচ্ছে। ফলে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারিতে একই পরিমাণ ডিজেল আমদানিতে বিপিসির খরচ ছিল ৩ কোটি ডলারেরও কম। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সেই ব্যয় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

অন্যদিকে, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহে তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে সরকার। আমদানিকৃত অকটেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জ্বালানি মিশিয়ে বিক্রয়মূল্য যথাক্রমে প্রতি লিটার প্রায় ১৫৫ ও ১৫০ টাকায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

তবে ডিজেলই সবচেয়ে বড় চাপের কারণ। দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ টনের বেশি ডিজেল। বিপিসি বর্তমানে আগের বছরগুলোর মুনাফা থেকে আমদানি ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছিল।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে শিগগিরই অর্থ বিভাগের কাছে ভর্তুকির জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হবে। ইতোমধ্যে এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলাকে দেড় হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

x

Check Also

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স আজ গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

এমএনএ প্রতিবেদক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স আজ যে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে, ...