Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় মিরপুর: দুর্ভোগে নগরবাসী, স্থায়ী সমাধানের দাবি

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় মিরপুর: দুর্ভোগে নগরবাসী, স্থায়ী সমাধানের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদক

সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে মিরপুর-১০, মিরপুর-১৩, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া, পল্লবী, কালশী, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন রিকশাচালক, মোটরসাইকেল আরোহী, সিএনজিচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা।

শুক্রবারের বৃষ্টির মতো শনিবারও দুপুরের প্রায় ৪০ মিনিটের বৃষ্টির পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। অনেক জায়গায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি কমে যায় এবং সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। সড়কের পাশে থাকা দোকানপাট ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, বৃষ্টির পানি দোকানের সামনে জমে থাকায় ক্রেতাদের চলাচল কমে যায় এবং পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ও নালা পরিষ্কারের ঘাটতি এবং পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে অল্প বৃষ্টিতেই অনেক এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ওবায়দুল বলেন, “আমার বাসা মিরপুর-৬ নম্বরে, আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিরপুর-১০ নম্বরে। একটু বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা যেন নদীতে পরিণত হয়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন চলাচল—সবকিছুতেই সমস্যা হয়। মিরপুর-১০ এলাকায় সিটি করপোরেশনের অফিস থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না।”

তিনি বলেন, “নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, কালশী-মিরপুর এলাকার পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করা হোক। না হলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ী—সবাইকে প্রতি বর্ষায় একই ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে।”

মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বেলায়েত হোসেন মানিক বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রধান সড়কগুলো পানিতে ডুবে যায়। এলাকার ভেতরের সড়কগুলোতে হাটু সমান পানি জমে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে থেকে বের হতে পারে না। তাদের কাজেও যেতে পারছে না। এ অবস্থার দ্রুত অবসান দরকার।

সিএনজিচালক মোহাম্মদ মতিয়ার রহমান বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তায় পানি জমে তীব্র যানজট তৈরি হয়। অনেক সময় গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, যাত্রীরা মাঝপথে নেমে যান। এতে আয় কমে যায়, কিন্তু খরচ কমে না।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে মিরপুর-১০ ও কালশী এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চালকদের পাশাপাশি যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়ে।”

পথচারী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, “আমার বাসা মিরপুর-১১ নম্বরে, আর ব্যবসা মিরপুর-১ নম্বরে। বৃষ্টি হলে মিরপুর-১০ থেকে সার্ভিস রোডের শেষ অংশ পর্যন্ত অনেক জায়গা পানিতে ডুবে যায়। তখন রিকশাচালকরা যেতে চান না, গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় সমস্যা।”

তিনি বলেন, “প্রতিবছর একই ভোগান্তি হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, মিরপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা দ্রুত করা হোক।”

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার দ্রুত নগরায়ণ, প্রাকৃতিক জলাধার ও খালের সংকোচন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ড্রেন পরিষ্কার নয়, বরং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি ধারণ ও দ্রুত নিষ্কাশনের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা কমাতে বিভিন্ন সময়ে ড্রেনেজ উন্নয়ন, খাল সংস্কার ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্প নেওয়া হলেও নগরবাসীর অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে এর সুফল এখনো পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই ঢাকা শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থমকে না যায়।

x

Check Also

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগ: এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ ...