Don't Miss
Home / অর্থনীতি / মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: ঢাকায় তেলের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, রেশনিংয়ের পথে সরকার

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব: ঢাকায় তেলের লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, রেশনিংয়ের পথে সরকার

বিশেষ প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যে আতঙ্কে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করেছে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর রমনা, মালিবাগ ও পরীবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, তেল নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকরা। অনেকে আবার চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রমনা ফিলিং স্টেশনে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অকটেন নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাইড শেয়ার চালক অপূর্ব বিশ্বাস। তিনি বলেন, “তেল নিতে নিতে যদি দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়, তাহলে বাকি সময়ের ভাড়ায় আর পোষায় না।” আগে দিনে দুইবার তেল নিলে পুরো দিন যাত্রী পরিবহন করা যেত, কিন্তু এখন একবারে মাত্র দুই লিটার তেল পাওয়ায় চার থেকে পাঁচবার পাম্পে যেতে হচ্ছে।

মালিবাগের হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন উবারচালক মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, “আগে এক-দুইবার তেল নিলেই সারা দিন বাইক চালাতে পারতাম। এখন চার-পাঁচবার লাইনে দাঁড়াতে হয়। ছয় ঘণ্টা বাইক চালাই, ছয় ঘণ্টা তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি।”

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই। হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা জাওয়াদ আল জাফি বলেন, “এই সীমা থাকলে কেউ অতিরিক্ত তেল মজুত করতে পারবে না। এতে সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।”

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, একবারে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০ লিটার, এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার, পিকআপ বা লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস ও ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার জ্বালানি তেল দেওয়া যাবে।

পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টারে শনিবার সকালে তেল নিতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের লাইন ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত দেখা গেছে। অনেকেই দেড় ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করেছেন। উবারচালক মাসুদুর রশিদ বলেন, “তেল নিতে নিতে দিনের অর্ধেক সময় শেষ হয়ে যায়। আগে যেখানে দিনে এক হাজার থেকে বারোশ টাকা আয় হতো, এখন পাঁচ-ছয়শ টাকাও পাওয়া কঠিন।”

এদিকে কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরীবাগের একটি পাম্পে ‘পেট্রল/অকটেন নেই’ লেখা বোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মজুত তেল দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে সড়কেও বাড়ছে যানজট, ফলে রোজার মধ্যে নগরবাসীর ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় তেল পাম্পে ভিড় বাড়ছে। তবে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। আগামী ৯ মার্চ দেশে আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত তেল মজুত ঠেকাতে এবং অনিয়ম রোধে আগামীকাল থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

এদিকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদে সংকট এড়াতে রোববার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।

সরকার বলছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং জনভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

x

Check Also

আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার চার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, আসছে রুটভিত্তিক কোম্পানি ব্যবস্থা

এমএনএ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা গড়ে ...