চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) এখনো ১০১ কোটি টাকার বেশি বকেয়া পরিশোধ করছে না চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)-কে। একাধিকবার তাগাদা ও যৌথ সভার সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও এ অর্থ আদায়ে অগ্রগতি না হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে।
লাভজনক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও বিএসসির দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ না করায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সংকটে পড়েছে। এখন বিষয়টির সমাধানে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপই একমাত্র ভরসা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বন্দর সূত্র জানায়, বিএসসির কাছে চবকের মোট পাওনার মধ্যে রয়েছে জাহাজ মাশুল বা পোর্ট চার্জেস বাবদ ৭৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, জায়গা ভাড়াবাবদ ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং ভ্যাট বাবদ ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ভ্যাটের অর্থ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বকেয়া আদায় না হওয়ায় তা পরিশোধ করতে পারছে না চবক।
চবকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দুই সংস্থার মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিএসসি এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৩ কোটি টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি বাকি অর্থ পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি রিভিউ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
পরবর্তীতে ১ ফেব্রুয়ারি সভার কার্যবিবরণী বিএসসিকে পাঠানো হয় এবং ৭ এপ্রিল পুনরায় তাগাদা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি।
নথিপত্রে দেখা যায়, ২০১৩ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় বিএসসির আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের পোর্ট চার্জেস স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘মন্দার অজুহাত’ দেখিয়ে এবং বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও অর্থ পরিশোধ থেকে বিরত রয়েছে বিএসসি।
‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ও ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ জাহাজ স্ক্র্যাপ করার সময় বিএসসি একটি অঙ্গীকারনামা দেয়। সেখানে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করে বাকি অর্থ মাসিক কিস্তিতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই কিস্তির একটিও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ চবকের।
চবক সূত্র জানায়, বিএসসি শুধু জায়গার ভাড়া বকেয়া রাখেনি, বরং তাদের ব্যবহৃত জায়গার জন্য প্রতি বছর পৌরকরও চবককেই পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে একদিকে রাজস্ব হারানো, অন্যদিকে অতিরিক্ত ব্যয়—দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বকেয়া অর্থ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি ইতোমধ্যে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়-এ পাঠানো হয়েছে। চবক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
বিএসসির নিজস্ব তথ্যমতে, গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি টাকা রাজস্ব এবং ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। একই সঙ্গে শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশও প্রদান করেছে।
তবে এমন আর্থিক সাফল্যের মধ্যেও বন্দর কর্তৃপক্ষের পাওনা পরিশোধ না করায় প্রশ্ন উঠছে সংস্থাটির দায়বদ্ধতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
এ বিষয়ে বিএসসির মহাপরিচালক (অর্থ) মো. আজমগীরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

