Don't Miss
Home / অর্থনীতি / নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ, জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধনে মৌজা রেটকে সমন্বয় হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ, জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধনে মৌজা রেটকে সমন্বয় হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং ঘোষিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তার ভাষ্য, “দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”

দুর্নীতি কমাতে বেতন বৃদ্ধির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আর্থিক সংকট ও অভাব অনেক সময় মানুষকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দেয়। তাই কর্মচারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়লে দুর্নীতির প্রবণতা কিছুটা হলেও কমতে পারে।

তিনি জানান, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অসামঞ্জস্য দূর করতে সরকারি নির্ধারিত মৌজা রেটকে প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশব্যাপী মৌজাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে নতুন মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে এবং এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সম্পদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি নির্ধারিত মৌজা রেট এবং বাস্তব বাজারদরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। ফলে জমি নিবন্ধন, সম্পত্তির মূল্যায়ন এবং কর নির্ধারণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যা সারাদেশে মৌজাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও মূল্যায়নের কাজ করছে।

তিনি বলেন, “মৌজা রেটের সঙ্গে বাজারমূল্যের বড় ব্যবধান থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সম্পত্তির প্রকৃত মূল্য গোপন রাখা সম্ভব হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়, তেমনি কালো টাকা সাদা করার সুযোগও সৃষ্টি হয়। আমরা চাই বাস্তবতার ভিত্তিতে একটি গ্রহণযোগ্য মূল্য কাঠামো তৈরি করতে।”

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, কৃষিজমি, আবাসিক জমি, বাণিজ্যিক জমি এবং অন্যান্য শ্রেণির সম্পত্তির জন্য পৃথকভাবে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। কারণ বিভিন্ন ধরনের সম্পদের ব্যবহার ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ভিন্ন হওয়ায় একই পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণ বাস্তবসম্মত নয়।

তার মতে, নতুন মূল্যায়ন কাঠামো চালু হলে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত বাজারমূল্য অধিকতর প্রতিফলিত হবে। এতে সম্পত্তি লেনদেন আরও স্বচ্ছ হবে এবং কর প্রশাসনের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মৌজা রেট বাজারদরের কাছাকাছি আনা গেলে সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় প্রকৃত মূল্য গোপনের প্রবণতা কমবে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে এবং কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক অর্থপ্রবাহ ও অঘোষিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার সুযোগও সীমিত হবে।

তিনি আরও বলেন, “সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা বাড়বে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

বাজেট-পরবর্তী এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, রাজস্ব সংস্কার, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

x

Check Also

শাহজালাল-শাহপরাণ মাজারের দান-অনুদানের হিসাব চায় প্রশাসন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের

সিলেট প্রতিনিধি দেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ ...