এমএনএ প্রতিবেদক
মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশ শুরু হয়েছে। দুপুর আড়াইটায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির সূচনা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর। দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানের পর দেশে ফেরার পর এটি তাঁর প্রথম সরাসরি শ্রমিক সমাবেশে অংশগ্রহণ।
প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিক ও নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। লাল টুপি, টি-শার্ট, ব্যানার এবং ঢোল নিয়ে অংশ নেওয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
সকালের প্রবল বর্ষণে নয়াপল্টন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও দুপুরের আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া সত্ত্বেও সমাবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ নির্মাণ, সাউন্ড সিস্টেম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি এবারের মে দিবসের সমাবেশে স্মরণকালের বৃহৎ জনসমাগম ঘটবে।”
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন-এর সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, আশপাশের এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক মাইক স্থাপন করা হয়েছে, যাতে বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারী সমাবেশের কার্যক্রম শুনতে পারেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি জরুরি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বিশাল মঞ্চে লাল কার্পেট বিছানো হয়েছে। মঞ্চের দুই পাশে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়েছে।
সমাবেশ শুরুর আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। জাসাসের শিল্পীরা বিপ্লবী গান পরিবেশন করে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেন। নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য।
দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে সরাসরি শ্রমিক সমাবেশে তারেক রহমানের অংশগ্রহণকে দলীয় নেতারা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। শ্রমিক অধিকার, রাজনৈতিক বার্তা এবং সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের দিক থেকে এবারের সমাবেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সমাবেশ ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, যা দিনভর নয়াপল্টন এলাকাকে সরগরম করে তোলে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

