ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শুরু
Posted by: News Desk
May 11, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য এক সংগঠনের নাম ছাত্রলীগ। জাতীয় সংগীত কণ্ঠে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আজ শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে।
রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দু’দিনের এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
সংগঠনের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাও উপস্থিত আছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
দুই বছর অন্তর সম্মেলনের কথা থাকলেও এবার তিন বছরের মাথায় নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে মিলিত হয়েছে ছাত্রলীগ।
২০১৫ সালে ২৬ জুলাই সাইফুর রহমানসোহাগকে সভাপতি ও এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের সর্বেশেষ কমিটি হয়।
এবার কাউন্সিলরদের ভোটে, না সমঝোতায় নতুন কমিটি হবে- তা এখনও স্পষ্ট নয়। অবশ্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সমঝোতার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে।
জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হবে সংগঠনের আগামীর নেতৃত্ব। তবে বরাবরের মতো এবার প্রত্যক্ষ ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচন না করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। ভোটপর্ব না থাকায় সম্মেলন কার্যক্রম কাউন্সিল অধিবেশন পর্যন্ত না-ও গড়াতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় সম্মেলন শেষ হওয়ার পর যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও মেধা বিবেচনায় নিয়ে সিলেকশন পদ্ধতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তিন ইউনিট ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটিও একই নিয়মে ও একসঙ্গে হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব শুক্রবারই নির্বাচন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
গত ২৫, ২৬ ও ২৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, মহানগর উত্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে ওই তিন ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও তখন নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়নি।
ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে গত ২ থেকে ৫ মে শীর্ষ দুই পদে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন এর তথ্য অনুযায়ী, এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতার জন্য ৩২৩ টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য ১১১ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২১২ জন ফরম কিনেছেন।
সম্মেলনে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন জেলার ডেলিগেটরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। ঢাকার বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা পৃথক টি-শার্ট, মাথায় ক্যাপ এবং কপালে ব্যান্ড পরে হাজির হন সোহরাওয়ার্দীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল এবং বিভিন্ন কলেজের ছাত্রীরা আসেন বর্ণিল শাড়ি পরে।
বেলা ১১টায় তিনটি প্রবেশপথ খুলে দেওয়া পর জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। নিজেদের পছন্দের নেতাদের পক্ষেও স্লোগান দিতে শোনা যায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা কর্মীদের।
এর আগে ছাত্রলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ২৬ ও ২৭ জুলাই। সম্মেলনে প্রত্যক্ষ ভোটে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও এস এম জাকির হোসাইন। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পর প্রধানমন্ত্রীসহ দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের নির্দেশে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পরবর্তী জাতীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেই দফায় সম্মেলন স্থগিত করা হয়। পরে ৩১ মার্চ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রমজানের আগেই ছাত্রলীগের সম্মেলন করে ফেলার নির্দেশ দিলে ১১ ও ১২ মে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ৫ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পাশাপাশি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি, নির্বাচন কমিশন ও ১৫টি উপকমিটি গঠন করে।
ছাত্রলীগের সম্মেলন ২৯তম জাতীয় শুরু 2018-05-11