Don't Miss
Home / রাজনীতি / ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: অংশ নিচ্ছে সর্বাধিক দল ও প্রার্থী, প্রতীকের সংখ্যায়ও রেকর্ড

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: অংশ নিচ্ছে সর্বাধিক দল ও প্রার্থী, প্রতীকের সংখ্যায়ও রেকর্ড

এমএনএ প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর এবারই সর্বাধিক সংখ্যক দল ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,০২৮ জনে।

ভোটাররা এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিসহ মোট ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। একই দিন রাতে রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ৮ আগস্ট নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

এই প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—যা অংশগ্রহণ, প্রতীক ও প্রার্থীর সংখ্যার দিক থেকে দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।

বর্তমানে ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া নিবন্ধিত আরও আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।

ইসির চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও তরিকত ফেডারেশন কোনো প্রার্থী দেয়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮টি দল অংশ নেয় এবং ৬৯টি প্রতীকে ভোট গ্রহণ হয়। সে তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ধানের শীষ প্রতীকে ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়েছে। জাতীয় পার্টি (জাপা) লাঙল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১৯২ আসনে।

অন্যান্য দলের মধ্যে— গণ অধিকার পরিষদ (ট্রাক) : ৯০ জন; সিপিবি (কাস্তে) : ৬৫ জন; বাসদ (মই) : ৩৯ জন; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) : ৩৪ জন; জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি (শাপলা কলি) : ৩২ জন; খেলাফত মজলিস (দেওয়াল ঘড়ি) : ২১ জন; এবি পার্টি (ঈগল) : ৩০ জন; গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) : ১৯ জন; গণসংহতি আন্দোলন (মাথাল) : ১৭ জন; এলডিপি (ছাতা) : ১২ জন; নাগরিক ঐক্য (কেটলি) : ১১ জন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় জোটসঙ্গী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর ছয়জন প্রার্থীর নাম রয়েছে। যদিও জাসদ দাবি করেছে, তারা নির্বাচন বর্জন করেছে।

ফিরে দেখা: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইতিহাস

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৫৩টি আসনে জয়ী হয়; বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করে।

১৯৮৮ সালের চতুর্থ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই অংশ নেয়নি। জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসন পায়।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন ছিল স্বল্পস্থায়ী; ভোটার উপস্থিতি ছিল ২৬.৫৪ শতাংশ এবং সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১২ দিন। একই বছরের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসে।২০০১ সালের অষ্টম নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসনে জয়ী হয়। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত হয়; ১৫৩টি আসনে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ নামে সমালোচিত হয়; আওয়ামী লীগ ২৫৮টি আসন পায়। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও বিএনপিসহ ১৬টি দল অংশ নেয়নি। আওয়ামী লীগ ২২২টি আসনে জয়ী হয়। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪১.৮ শতাংশ। সংসদের মেয়াদ স্থায়ী হয় মাত্র ছয় মাস সাত দিন।

x

Check Also

ঢাকার চাপ কমাতে সারাদেশে গড়ে তোলা হবে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা: প্রধানমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ কমাতে দেশের সব অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ...