Don't Miss
Home / প্রচ্ছদ / যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ চুক্তি করছে বিমান

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের উড়োজাহাজ চুক্তি করছে বিমান

বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিমান নির্মাতা বোয়িংয়ের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সই করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এ বিশাল বাজেটের ক্রয় চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বিমান সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে মোট ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ম্যাক্স জেট।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিমান চলাচল খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এটি বিমানের আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে সংস্থাটির বহরে ড্রিমলাইনারসহ বিভিন্ন মডেলের উড়োজাহাজ থাকলেও নতুন সংযোজনগুলো অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

বিমান কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেশে ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বহর আধুনিকীকরণ, জ্বালানি-সাশ্রয়ী উড়োজাহাজ সংযোজন এবং রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশস্ত বডির ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এগুলো উন্নত জ্বালানি দক্ষতা, আধুনিক কেবিন সুবিধা এবং দীর্ঘ সময় আকাশে থাকার সক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

অন্যদিকে, বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে কার্যক্রম জোরদারে সহায়ক হবে। দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যগুলোতে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো এবং নতুন রুট চালু করার ক্ষেত্রেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র জানায়, উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ, এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি (ECA) এবং নিজস্ব তহবিলের সমন্বিত ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। চুক্তি সইয়ের পর ধাপে ধাপে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ ডেলিভারি দেওয়া হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে নতুন গতি আসবে। আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

x

Check Also

স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের তিন ধাপের নতুন প্রস্তাবে ট্রাম্পের আপত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধ করে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে তিন ধাপের ...