সিপিএ সম্মেলন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
Posted by: News Desk
November 5, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকায় চলমান কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন-সিপিএ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রবিবার দুপুরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি ৬৩তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স-সিপিসি’র উদ্বোধন করেন।
দুপুরে তিনি এর উদ্বোধন করলেও সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। শিল্পকলা একাডেমির একদল শিল্পী জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। উদ্বোধন শেষে স্মারক ডাক টিকিট সম্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ফটোশেসন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিভিন্ন কমিটির বৈঠক ও সেমিনারের মধ্য দিয়ে ১ নভেম্বর থেকে ইতোমধ্যে এই সম্মেলন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন সিসিএ-এর চেয়ারপারসন ও জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সম্মেলনে সিপিএ-এর চিফ প্যাট্রন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়, ‘কনটিনিউনিং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ড অব পারফরমেন্স অব পার্লামেন্টারিয়ানস’। সম্মেলন শেষ হবে আগামী ৮ নভেম্বর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার একে এম নূরুল হুদা, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপ, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছাড়াও গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২ নভেম্বর সিপিএ’র স্মল ব্রাঞ্চেস এর সেশন শুরু হলেও মূল কার্যক্রম শুরু হলো আজ রবিবার থেকে।
সিপিএ সম্মেলন উপলক্ষে অপরূপ সাজে সজ্জিত করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ও এর আশপাশ এলাকা। রাতের বেলায় নানার রঙের বাতির ঝলকানিতে চোখ ধাধিয়ে যাচ্ছে সবার। লাগানো হয়েছে ব্যানার ফেস্টুন। সেখানে শোভা পাচ্ছে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সিপিএ নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর ছবি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাশ্বত একখণ্ড বাংলাদেশের তুলে ধরা হয় আগত ছয় শতাধিক বিদেশি অতিথিদের মধ্যে। সেখানে ছিল বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐহিত্য ও প্রকৃতি তুলে ধরা হয়। উদ্বোধনী মঞ্চ বানানো হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার আদলে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে এশিয়াটিক। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে উদ্বোধনী মঞ্চ তৈরি করা ছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখভাল করে। অনুষ্ঠানে রানী এলিজাবেথের বাণী পাঠের পরই ‘স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ নামে একটি পরিবেশনা ছিল। এরপর সিম্পনি অব ডেমোক্রেসি নামে একটি নৃত্য পরিবেশন করা হয়। শিবলি সাদিক ও শামীম আরা নীপার নেতৃত্বে নৃত্যঞ্চলের একদল শিল্পী এটি পরিবেশন করেন।
এরপর দেখানো হয় সিপিএ’র কর্মকাণ্ড ও গুরুত্ব। বাংলাদেশের সম্ভবনা ও সমৃদ্ধি বিষয়ক পরিবেশনা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনী বক্তব্য দিয়ে সম্মেলনের শুভ সূচনা করেন।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন সিপিএ’র নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মহাসচিব আকবর আলী প্রমুখ।
সিপিএভুক্ত ৫২টি দেশের মধ্যে ৪৪টি দেশের ১৮০টি শাখার মধ্যে ১১৪টি শাখা জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যসহ ছয় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্স-সিপিসি’র ভাইস প্যাট্রন, আর দ্য গ্রেট বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিপিএ’র প্যাট্রন।
সিপিএ ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ যৌথভাবে এই সম্মেলন আয়োজন করছে। সিপিএ’র মূল সম্মেলন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন (বিআইসিসি) কেন্দ্রে হবে। অন্যান্য সভা ইতোমধ্যে হোটেল রেডিশন ব্লু’তে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উত্থাপন করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ এম মাহমুদ আলী। এবারের সিপিএ সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও সিপিএ’র নির্বাহী কমিটির আটটি সেমিনারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে কেউ বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলে একাধিকবার জানিয়েছেন সিপিএ চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উদ্বোধন করলেন সিপিএ 2017-11-05