এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : সাংবাদিকতা পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ পেশা। সম্প্রতি ২০০টি পেশার ওপর সমীক্ষা শেষে এমন এমন তকমাই দেয়া হয়েছে এই পেশায় নিয়োজিত মানুষদের পরিশ্রমকে।
ঝড়-জল, সর্দি-কাশি, যুদ্ধ-কারফিউ প্রতিকূল আবহাওয়া- খবর সংগ্রহের জন্য নিবেদিত প্রাণ। প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ। নিশ্চিন্ত নিদ্রা, গৃহকোণের খুনসুটি সুখের অবসর সে চাকরিতে নেই। কথা হচ্ছে ‘খবর পাড়ার’ মানুষগুলো নিয়ে- সুকান্ত যুগের ‘রানার’ আর হাল আমলের ‘সাংবাদিক’।
সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা রিপোর্টের দাবি- বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ পেশা নাকি সাংবাদিকতা। বিশেষ করে খবরের কাগজে সাংবাদিকতা।
২০১৬ সালের এ জরিপে সাংবাদিকতাসহ ‘সবচেয়ে খারাপ তালিকায়’ যে প্রথম ১০টি পেশার নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে সেলসম্যান, ট্যাক্সি ড্রাইভার, টাইপিস্ট, লাইব্রেরিয়ান, সমাজকর্মী অন্যতম।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘কেরিয়ারকাস্ট’ নামে একটি জব ওয়েবসাইট সম্প্রতি বিশ্বের ২০০টি পেশার ওপর একটি সমীক্ষা চালায়। সমীক্ষায় কাজের পরিবেশ, বেতন, উপরি আয়, কাজের চাপ, মানসিক চাপ, সব কিছুর ভিত্তিতে সার্বিকভাবে র্যাংকিং দেয়া হয় বিভিন্ন পেশাকে। তাতে আয়, কাজের পরিবেশ, চাপ, অবসাদসহ সব কিছুতেই খারাপ পেশার তকমা জুটেছে সাংবাদিকতার। আর সবচেয়ে ভালো পেশায় এক নম্বরে রয়েছে বিজ্ঞানী বা গবেষণা।
সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, গণমাধ্যমে ক্রমেই মালিকের হস্তক্ষেপ বাড়ছে। সংবাদ-সাংবাদিক দুয়েরই স্বাধীনতা কমেছে। সাংবাদিকদের বেতন ক্রমেই কমছে। গত দশ বছরে গোটা বিশ্বেই খবরের কাগজের বিক্রি কমেছে। বিজ্ঞাপন বাবদ আয় কমেছে। সেই সঙ্গে লাভও কমেছে কোম্পানিগুলোর। যার প্রভাব পড়েছে সাংবাদিকদের আয়েও।
এদিকে আয় কমলেও, কাজের চাপ, চাকরি ঝুঁকি, বিপদের আশংকা একটুও কমেনি।
গবেষণা ছাড়াও, সুখের পেশায় প্রথম সারিতে রয়েছে, মেডিকেল, ইনফরমেশন, সিকিউরিটি অ্যানালিস্টের মতো পেশাও।
উল্লেখ্য, নতুন প্রজন্মের যারা সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন- তাদের উদ্দেশ্যেও সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।
২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালের জরিপেও সাংবাদিকতা সবচেয়ে খারাপ পেশার তালিকায় স্থান পায়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক


