নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি
Posted by: News Desk
February 16, 2018
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : নির্বাচনের দুই মাস পর নতুন প্রধানমন্ত্রী পেল নেপাল। দেশটির বামপন্থী রাজনৈতিক দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল(একীভূত মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) বা সিপিএন-ইউএমএলের প্রধান কে পি শর্মা ওলি গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন।
প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি ৬৫ বছর বয়সী কে পি শর্মা ওলিকে দেশটির ৪১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। নেপালের রাজনীতিতে ওলি চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রেসিডেন্টের সচিব ভেশ রাজ অধিকারীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, বামপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শপথ নেন।
মাওবাদীদের সহিংস বিদ্রোহী তৎপরতা অবসানের ১১ বছর পর নতুন সংবিধানের অধীনে কে পি শর্মা ওলি প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন। নেপালকে হিন্দু রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তর করতেই নতুন সংবিধান প্রণীত হয়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র আট মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করেন শের বাহাদুর দেউবা। তার তত্ত্বাবধানে ও নতুন সংবিধানের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির (একীভূত মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী) নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হয়। মাওবাদী বিদ্রোহীদের তৎপরতা বন্ধে ও চুক্তির অংশ হিসেবে ১১ বছর আগে নতুন সংবিধানের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিভিন্ন দলের মধ্যে মতানৈক্যের কারণে সংবিধান প্রণয়নে দেরি হয়।
এর আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী দেউবা বলেন, ‘আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল নতুন সংবিধানের অধীনে তিন ধাপে নির্বাচনের আয়োজন করা। আমার দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে। তাই পদত্যাগ করছি।’
গত বছরের নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি ও মাওবাদীরা জোটবদ্ধভাবে দেউবার দল নেপালি কংগ্রেসকে পরাজিত করে।
গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী নেপালের প্রথম সংবিধানের অধীনে গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়ী হয় সিপিএন-ইউএমএলের নেতৃত্বাধীন বাম মোর্চা। তবে ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্বিত করে ক্ষমতাসীন নেপালি কংগ্রেস। নতুন সংবিধানে নির্বাচনী আইনের যেসব বিধিবিধান আছে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্যই এই বিলম্বের কারণ।
২০০৬ সালে নেপালে মাওবাদী বিদ্রোহের অবসান হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী পদে বদল হলো ১১ বার। গত বছর নেপাল হিন্দু রাষ্ট্র থেকে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ফেডারেল প্রজাতন্ত্র হয়, যেখানে গোটা দেশকে সাতটি প্রদেশে ভাগ করা হয়েছে। এই সংবিধানের অধীনে নির্বাচনে বাম মোর্চা পার্লামেন্টে ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৭৪টি আসন পায়। ভোটাররা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে বিবেচিত স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য নতুন সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। আশা করা হচ্ছে, এর মাধ্যমে হিমালয়ের দেশ নেপালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে।
প্রধানমন্ত্রী নতুন নেপালের কে পি শর্মা ওলি 2018-02-16