এমএনএ রিপোর্ট : ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে ২১১টি দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত ও এক হাজার ১৭৬ জন আহত হয়েছে। এরমধ্যে শুধু সড়কেই ১৯৩টি দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ২৪৮, আহত ১ হাজার ৫৬ জন।
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন আজ বুধবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেলক হক চৌধুরী জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর ঈদযাত্রা শুরুর দিন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর কর্মস্থলে ফেরা পর্যন্ত ১২ দিনের সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
সমিতির হিসাবে ঈদযাত্রায় ৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৩০ জন আহত এবং রেলে কাটা পড়ে সাত জন নিহত ও চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৫০ জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৭৭টি মুখোমুখি সংঘর্ষে ১১২ জন নিহত ও ৫৫৭ জন আহত হয়েছে।
এছাড়া বাস চাপার ২৭টি ঘটনায় ২৯ জন নিহত, ২০ জন আহত এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ২০টি ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৬৪ জন আহত হয়।
১২ দিনে ২১১টি দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নিম্নরূপ | |||
তারিখ | দুর্ঘটনার সংখ্যা | নিহত | আহত |
| ৭ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১৬ | ২১ | ২৪ |
| ৮ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১২ | ১২ | ৩২ |
| ৯ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১৪ | ১৩ | ১৮৫ |
| ১০ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১৫ | ২৮ | ৫৪ |
১১ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ২০ | ১৮ | ১৭৬ |
| ১২ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১৩ | ২৩ | ৫৪ |
| ১৩ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১১ | ১২ | ২১ |
| ১৪ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ২৭ | ২৯ | ১৬৪ |
| ১৫ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১৩ | ১৩ | ৮৭ |
| ১৬ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ২৩ | ৩৫ | ১৮৩ |
| ১৭ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ২৯ | ৩৭ | ১০৪ |
| ১৮ সেপ্টেম্বর’ ২০১৬ | ১৮ | ২৪ | ৯২ |
| মোট ১২ দিন | ২১১ টি | ২৬৫ জন | ১১৭৬ জন |
সড়কের পরিস্থিতি ভাল হলেও দুর্ঘটনা সেভাবে কমানো যাচ্ছে না উল্লেখ করে প্রতিবেদনে এসব দুর্ঘটনার জন্য ২০টি কারণ চিহ্নিত করেছে সমিতি।
এর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে পাশ কাটানো (ওভার টেকিং), সড়কে রোড ডিভাইডার বা বিভাজক না থাকা, ট্রাফিক আইন না মানা, চালকের বেপরোয়া মনোভাব, প্রশিক্ষণবিহীন অদক্ষ চালক, যাত্রীদের অসচেতনতা।
দুর্ঘটনারোধে বেশকিছু সুপারিশও করেছে সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে- মহাসড়কে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা, রোড ডিভাইডার তৈরি, রোড সেফটি অডিট নিয়মিত করা, দুর্ঘটনা তদন্তে পুলিশের পৃথক ইউনিট করা।
মোজাম্মেল হক বলেন, “এবার ঈদের আগে বেশ কিছু নতুন সড়ক হয়েছে। গাড়ির গতি বেড়েছে। কিন্তু মহাসড়কে বড় যানবাহনের সঙ্গে ছোট যানবাহন চলা বন্ধ হয়নি। এ কারণে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
শহর এলাকার ছোট গাড়ি মহাসড়কে চলার কারণেও দুর্ঘটনার হার বেড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, “ড্রাইভিং স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি, দক্ষ চালক গড়ে তোলা, উন্নত সড়ক যোগাযোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব।”
দুর্ঘটনার জন্য সরকারের মতো জনগণেরও দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক এই চেয়ারম্যান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি রুস্তম আলী, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব গনি মিয়া বাবুল।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
