এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ পরিবেশ নিয়ে বিশ্ব এখন মারাত্মক চ্যালেঞ্জিংয়ের মুখোমুখি। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা কোভিড-১৯ নিয়ে পুরো বিশ্ব সরব থাকলেও বিশ্বব্যাপী প্রকৃতির জন্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে তেমন কোন আমাদের মাথা ব্যথা নেই। ফলে কোন্ দেশ উন্নত বা কোন্ দেশ উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরিতে রয়েছে, তা প্রকৃতির উম্মত্ততার কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। কো্ন্ দেশ ধনী বা দরিদ্র তাও বিবেচনা করা হয়না। তাই আমাদের অন্যান্য সমস্যার পাশাপাশি, পরিবেশগত কারণগুলো নির্ণয় করে সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে। কেননা পরিবেশগত সমস্যাগুলো যাতে প্রকট হয়ে উঠতে না পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা অবস্থায় জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার কোন বিকল্প নেই।
আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সত্যকে অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই। পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য সবার সচেতন থাকার প্রয়োজন রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বি উঞ্চতার কারণে এই বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ড পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এজন্য এই বিশ্বে বসবাসরত মানুষগুলোর সচেতন হতে হবে।
বিশ্ব উঞ্চতার কারণে সমস্যা প্রকট হচ্ছে দিন দিন। সারা বিশ্বে মানুষ প্রতিনিয়ত পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলা করছে।
ফলে আমাদের এই গ্রহটি গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা মোকাবেলা করছে। বর্তমানে এই পরিবেশগত সমস্যা আগামীতে আরো ব্যাপক হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এই পৃথিবীর পরিবেশ। যদি এই পৃথিবীতে বসবাসরত মানুষগুলো পরিবেশ ঠিক রাখতে সচেতন হই, একটু উদ্যোগ গ্রহন করি। তাহলে এই পৃথিবীতে বসবাসরত মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী একটি সুন্দর আবাস যোগ্য পরিবেশ পাবে।
বর্তমানে বিভিন্ন ধরণের দূষণ, অতিরিক্ত জনসংখ্যা, বৈশ্বিক উঞ্চতা, প্রাকৃতিক সম্পদ বিনষ্ট করা, বন উজাড়, জীব বৈচিত্র্যের ক্ষতি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিভিন্ন রকম পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। এছাড়া নাইট্রোজেন গ্যাস, ওজোন স্তরের হ্রাস, এসিড বৃষ্টি, পানি দূষণ, অতিরিক্ত মৎস আহরণ, শহরের বিস্তৃতি ও জনস্বাস্থ্যের সমস্যা ইত্যাদি। এসব সমস্যাগুলো মানুষের দ্বারা সমাধান করা সম্ভব।
১৯৮৮ সালের জুনে জলবায়ু বিজ্ঞানী জেমস হ্যানসেন মার্কিন সিনেটের একটি কমিটির সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় মার্কিন কংগ্রেস ২০২২ সালে মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস আইন(আইআরএ) এর অংশ হিসেবে মার্কিন ইতিহাসে প্রথম জলবায়ু আইন পাস করে সিনেটে। ২০৩০ সালের মধ্যে বিলিয়ন ডলার খরচ করে ৫০ শতাংশ গ্রীনহাউস গ্র্যাস নির্গমন হ্রাস করার জন্য রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। বিশেষজ্ঞদের ধারনা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেবে।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা একটি সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসতে পারলে লক্ষ্য পূরণ হবে। মার্কিন প্রশাসন জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় দৃশ্যমান কোন সফলতা অর্জন করেনি। তবে জো বাইডেনের প্রশাসন দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
১৯৭৬ সাল থেকে ইংল্যান্ড বছরের প্রথম থেকে শুষ্কতম সময়ের মুখোমুখি হচ্ছে। ফ্রান্সের ৯৬ মূল ভুখন্ডের প্রায় অঞ্চলে জল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এসময়ে ইউরোপ ও আমেরিকা খরায় পুড়ছে। আনুমানিক ৫৫ মিলিয়ন মানুষ খরায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।আফ্রিকা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান তাপের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, খরা ইউরোপের জ্বালানি সংকটকে আরো প্রকট করে তুলবে। সংকট নিরসনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দাবানল, সঙ্কুচিত নদী ও তাপমাত্রার কারণে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। স্পেন জুলাই মাস অতি উঞ্চতম মাস উল্লেখ করেছে। ব্রিটেন এই সময়টাকে অতি তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এসময় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।
শুধু ইউরোপ বা আমেরিকা নয়, অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশ, আফ্রিকা, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ইত্যাদি দেশের চারপাশে হঠাৎ বন্যা, খরা, আগ্নেয়গিরির অগ্নোৎপাত, ভূমিকম্প, ঘুর্ণিঝড় ইত্যাদির কারণে গুরুতর পরিবেশগত চ্যালেন্জের মুখোমুখি হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে কয়েকটি দেশে দাবানল, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে প্রবল বন্যায় ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিসহ মানুষ মারা গেছে।জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়েছে। তাই পৃথিবীকে কোন প্রাণীই নিরাপদ নয়।
তার মধ্যে, বর্তমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব বিশ্ব পরিবেশ আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আমেরিকা ও রাশিয়া তেলের মজুদ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলে অনেক দেশ জ্বালানী সংকটে পড়েছে। এ কারণে অন্য কোন উৎস থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবেলায় চেষ্টা করছে।এটা বড় আশার কথা যে, জ্বালানি সংকট সত্ত্বেও এখনো যুদ্ধের কারণে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়নি!
সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলতে গিয়ে বৈশ্বিক পরিবেশের হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো বাড়তে থাকলে আমাদের কৃষি উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হবে। তিনি এই সমস্যাকে পরিস্থিতির জন্য বিপজ্জনক বলেছেন।
আজ আমরা বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর শক্তিমত্তা লক্ষ্য করছি। তাতে অর্থনৈতিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে। বিশ্ব নেতারা কি একবার ভাবেন তাদের এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার কাছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অসহায়! তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা কি ভাবেন দরিদ্র দেশগুলো এই পরিস্থিতির কারণে সংকট মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে! তাদের ভুলের দায় অন্য দেশ বা মানুষেরা কেন নেবে! বিশ্ব বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে বিশ্বনেতাদের এ বিষয়ে চিন্তাশীল ভূমিকা রাখতে হবে। পৃথিবীর পরিবেশ ভালো রাখতে তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকতে হবে। কিন্তু আজ অবধি বিশ্ব পরিবেশ নিয়ে বিশ্বনেতাদের চিন্তিত বলে মনে হয়না।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জলাবায়ু আন্দোলনে কয়েক বছর ধরে বিশ্ব জলবায়ু আন্দোলনের প্ল্যাটফর্মে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। মাত্র কয়েকটি দেশের ভূমিকায় এই আন্দোলন সফলকাম হবেনা। বিশ্বের শিল্পোন্নত সকল দেশকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একসাথে কাজ করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন সব রাসয়নিক পদার্থের ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর উপরিভাগে তাপ বাড়ায় এমন কারণগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে হবে। সব ধরনের দূষণ কমাতে হবে। পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রচার জোরদার করতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা জরুরি। পরিবেশ রক্ষা গেলে প্রকৃতির ক্রোধ থেকে মানবাজাতিকে রক্ষা করা সম্ভব।
এসব বিষয়ে বিশ্ব নেতাদের অবশ্যই পরিস্থিতি অনুধাবন করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে একমত হতে হবে সর্বাগ্রে। অনেক আগে এই পদক্ষেপ নেয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো যেতো। তাই পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আর সময় ক্ষেপন করা ঠিক হবেনা। আমরা যদি প্রকৃতির প্রতি সদয় থাকি প্রকৃতি আমাদের বন্ধু হয়ে আমাদের রক্ষা করবে। অন্যথায় সামনে আমাদের জন্য এক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
প্রকৃতি আমাদের মা। প্রকৃতি আমাদের ক্ষতি করেনা। বরং প্রকৃতি মায়ের ভূমিকায় বিশ্বের সকল প্রাণীকূলকে রক্ষা করে।
আমাদের বিশ্বাস, বিশ্বনেতাদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রকৃতিকে আমরা আমাদের স্বার্থে বাঁচাতে সক্ষম হবো।
– মিয়া মনসফ, যুগ্ম সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ)
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

