Don't Miss
Home / জাতীয় / সালমান, বেক্সিমকো গ্রুপের ৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ, ২৮ মামলা তদন্তাধীন
Brown Modern sepecial Promo Flyer - 1

সালমান, বেক্সিমকো গ্রুপের ৭ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ, ২৮ মামলা তদন্তাধীন

এমএনএ প্রতিবেদক

বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান ফজলুর রহমানের সংশ্লিষ্ট ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আদালতের নির্দেশনায় এসব সম্পদ বর্তমানে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুদকের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্সের অধীনে এখন পর্যন্ত মোট ২৮টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুদক করেছে ১১টি মামলা, আর ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) করেছে ১৭টি মামলা। এসব মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ রাখা হয়েছে।

দুদকের হিসাবে বর্তমানে ফ্রিজ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে— ১০৭টি বিও (বেনিফিসিয়ারি ওনার) অ্যাকাউন্টে প্রায় ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা; ৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শেয়ার; ১,৯৭০.৪৬৭ শতাংশ জমি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১.৯৩ কোটি টাকা; লন্ডনে সালমান এফ রহমানের পরিবারের নামে দুটি ফ্ল্যাট, যার আনুমানিক মূল্য ৭.৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা)।

দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আদালতের নির্দেশে জব্দ হওয়া সম্পদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা এবং যেন সেসব সম্পদ হস্তান্তর না হয় তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব।

দুদকের তদন্তে সালমান এফ রহমান ছাড়াও তার পরিবারের একাধিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীদের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—  তার ভাই এ.এস.এফ. রহমান; ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান; ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমান; বেক্সিমকোর পরিচালক ইকবাল আহমেদ; ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী; পরিচালক এ.বি. সিদ্দিকুর রহমান; পরিচালক মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান; পরিচালক শাহ মঞ্জুরুল হক; ও পরিচালক রীম এইচ শামসুদ্দোহা।

এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে, বিশেষ করে জনতা ব্যাংক এবং আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর রপ্তানি আয়ের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জনতা ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৯৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে পৃথক ৫টি মামলা করে দুদক।

এসব মামলায় মোট ৩৪ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বেক্সিমকো সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পোশাক কারখানার নামে ভুয়া রপ্তানি দেখিয়ে মার্কিন ডলারে বিপুল অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল—  পিয়ারলেস গার্মেন্টস; প্লাটিনাম গার্মেন্টস; কাঁচপুর অ্যাপারেলস; স্কাইনেট অ্যাপারেলস; ও নিউ ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিজ।

২০২৫ সালের ৩ জুন আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১,১৭৪ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুটি মামলা করা হয়।

প্রথম মামলায় প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা, দ্বিতীয় মামলায় প্রায় ৪৯৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

এ মামলায় যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—  সালমান ফজলুর রহমান; আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান; সাবেক পরিচালক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী; সাবেক এমডি মোহাম্মদ শাহ আলম সারোয়ার; ব্যাংকের চিফ ক্রেডিট কর্মকর্তারা; ট্রেজারি ও আইটি বিভাগের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা; ও ১৩৬ কোটি টাকার আরেক মামলা।

চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক। এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দলিল তৈরি করে ব্যাংক ঋণের অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রতারণার অভিযোগে সালমান এফ রহমান, সাবেক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।অভিযোগে বলা হয়, অতিমূল্যায়িত সম্পদ ও জাল জামানতের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, সালমান এফ রহমানের পরিবারের নামে যুক্তরাজ্যে পাওয়া সম্পদ উদ্ধারে তারা মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকুয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠিয়েছে। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো প্রায় এক ডজন নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে ব্যাংক ঋণ, শেয়ারবাজার কারসাজি, কর ফাঁকি এবং বিদেশে অর্থ পাচারের নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্টে সালমান এফ রহমান ও বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়ে তার বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

x

Check Also

বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে কমিটি পুনর্গঠন, আহ্বায়ক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

এমএনএ প্রতিবেদক ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’, ‘বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’ এবং ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন ...